অনেক পুড়েছি আমি – আহিরীটোলা বা শিবপুর,
শুধু যা আলিঙ্গনটুকুই বাকি।
হিসাব নেবার মতো যথেষ্ট বৃদ্ধ আমি –
যে হিসাবটুকু বাকি – মুক্তি দিক সে আমায়।
পুড়তে পুড়তে কত রং দেখেছি;
শুধু হলুদ স্বপ্নের মতো – পানীয় – আরো ঘন হয়ে এলে মস্তিষ্কে –
কি এক দুর্বোধ্য প্রেম জেগে ওঠে।
মনে হয় পাড়ি দিই আরো হাজারটা বছর।
মনে হয় পুড়িয়ে দিই – আমার – পোড়া এই যন্ত্রনা,
হঠাৎ কেমন যেন স্বপ্ন হয়ে যায় সব –
আমি – তুমি – আর এই পোড়া যন্ত্রনা।
বিকালের হলুদ আলোয় –
ঘরে ফেরা পরিযায়ী পাখিদের ডানার রঙে –
আবার বাঁচতে ইচ্ছে করে।
– আবার হাজারটা বছর।
সেই এক সুর – বড় একঘেয়ে – মিনমিনে এক সুর।
অথবা সবলে উৎপাটিত কোনো –
ইতিহাসের পাতা খুঁড়ে খুঁড়ে বিবর্ণ মমির মতো।
এক – অবিনশ্বর – অদ্বিতীয় – অমোঘ।
পচা – দীর্ণ – দুস্থ – দিনের পর দিনের উদ্বৃত্ত বাসি মড়ার মতো,
এক সুর।
বড়ো প্রত্যাশিত ।
আমি নয়, আমরাও নয় – ওরা।
আবারও আসিও ফিরে –
এই – ভোর কুয়াশার তীরে –
নরমে লাজুকে – শিশিরে নিশীথে –
কাটে নাকো নিশি – একলা ফিরিতে।
স্নিগ্ধ সবুজে, নুপুর’ পরশে
যুথিকা ডালিতে হিমেল দিবসে।
একা যেন ধাই – তোমা প্রাণে নাই –
আমাতে তোমাতে দোহারে মিলিতে
তপোবন’ মাঝে দেউড়ি খুলিতে –
শেষ বার যেন – মরমে পরশে –
শীতল উষ্ণতা তব – পুলকে হরষে।
অমা নিশি শেষে – সেই যেন পাই-
আর কিছু নাই – আর কেহ নাই –
বিদায় দেহ – এইবেলা যাই।
(ধন্যবাদান্তে – শ্রীযুক্ত সুদীপ্ত মাইতি )
(অমিতাভ)
এই নাও টুকরো টুকরো হৃদয় আমার,
আর আমায় দিয়ে যাও – তোমার স্তব্ধতা।
এই-সব তুমি পাখি করে দিও –
কান্নাগুলো ফুল।
নিয়ে নাও যত বন্ধন – যত নিয়ম – যত শৃঙ্খল,
বে-নিয়মে – আমাকে দাও তোমার মুগ্ধতা।
এক টুকরো কাঞ্চনজঙ্ঘা।
নিঃশ্বাসে তোমার বৃষ্টি নামে,
এক নীল, – রাঙিয়ে দেওয়া বৃষ্টি।
মনে হয় – মেঘে মেঘে ঝর্ণার রং –
ঘ্রান নেমে আসে – আজন্মের সুখ।
পিঠে – বুকে এলোমেলো শীতল হাওয়া,
ভেঙে পড়ে রোদ্দুর।
আমি মেঘলা হবো – তুমি আকাশ পারে কবি।
ট্রেনটা কখন যেন শ্বাপদের মতো চুপিসাড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
সারা রাস্তা বয়ে আনা বোঝাটা পাশে সরিয়ে মন চায় –
আরও একটু স্পর্শ।
সেই আমি – আর – তুমি;
ঠিক হারিয়ে যাওয়ার আগে –
নতুন দিনের মতো।
তোলপাড় করে ওঠে আমার নিটোল বুনোট।
ফিস ফিস করে জানান দেয় – শ্বাপদটা –
সময় শেষ হওয়ার যন্ত্রনা।
ঠিক সেই সময় দেখি –
তুমি তখনও দরকষাকষিতে ব্যস্ত –
আরও দু চার পয়সার সস্তা সাশ্রয়।
এইভাবেই –
ধীরে ধীরে কুয়াশায় মধ্যবিত্ত প্রেম –
মধ্যবর্তী – হয়ে যায়।
শুধু ঝাপসা আলোয় হয়তোবা দু ফোঁটা জলের রেখা –
দু হাত শূন্যে তুলে গর্জে ওঠে –
অপূর্ণতা যদি কিছু থেকেও যায় –
তা কিছু বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো নয় -।
Recent Comments