তার চেয়ে তো সন্ধে আসে তাড়াতাড়ি,
তবু – প্রতি সন্ধ্যায় তার আসা হয় না –
অকারণ ভিড়ে – ভাসতে ভাসতে –
নতুন কিছু মানুষ দেখা।
নতুন কিছু মুখ – নতুন কিছু –
তবু তার আসা হয় না।
আসবে বলে এসেছিলো কখনো ?
অথবা আসবো বলেছিলো ?
মনেও কি আছে সেসব ?
সেই সাড়ে সাত যুগ আগে -।
নদী বক্ষে এতো চর ছিল না –
বাঁধটাই হয়তো ছিল না।
মনেও কি পড়ে না ?
মাত্র সাড়ে সাত যুগ আগে -!
মুহূর্তরা সব মমির মতো –
জাল বুনতে সময় লাগে –
…সাড়ে সাত যুগ লাগে।
ফুলকুমারী ফুলকুমারী তোর সাথে আজ আমার আড়ি।
পলাশ ছাপা বনের মাঝে একলা একলা ঘুরিস ভারী ?
ফুলকুমারী ফুলকুমারী তোর সাথে আজ আমার আড়ি।
ফুলকুমারী ফুলকুমারী –
রাগ হয় না ভারী?
শিউলি রাঙ্গা পথের ‘পরে –
দেখিস সকাল কেমন ঝরে ?
দেখিস কেমন চাঁদের আলো-
জোছন গুলো মিশিয়ে দিল –
ফুলকুমারী ফুলকুমারী তোর সাথে আজ আমার আড়ি।
ফুলকুমারী ফুলকুমারী –
দেখিস কেমন খোঁপার সাজে –
আমায় বুঝি মানায় না যে।
দেখিস আবার মুকুট পরে
সই কি তোর মনে ধরে?
যাহ –
তোর সাথে আজ আমার আড়ি-
একা একা ঘুরিস ভারী –
ফুলকুমারী ফুলকুমারী।
বৃষ্টি ভেজা এলো চুলে
মিষ্টি হাওয়ায় আঁচল তুলে
মেঘের দেশে ডানা মেলে
হারিয়ে যাস তুই আমায় ফেলে।
কত কষ্ট বুকের মাঝে
পাখির সুরে অমন বাজে
দেখিস না তুই
বুঝিস না তুই
আড়ি তবে – যা – পালা –
খেলব’ না আর – ডাকিস মেলা –
আবার কবে আমায় ফেলে –
মায়ের কোলে যাবি চ’লে!
ফুলকুমারী ফুলকুমারী –
তোর সাথে আজ সত্যি আড়ি -||
সোনালী – সোনালী আবির মাখা রোদ –
সন্ধ্যা আদর করে নিয়ে গেছে তারে –
রাত্রির পর্ণ কুটিরে।।
আমি আকাশ জুড়ে তারই শব্দ ছবি –
কুড়ায়ে পেয়েছি –
মেহগনি পাতার ভিতর -।
এত কথা –
এত ঘর – এত নিবিড় আবেশ
অনেক – অনেক – বর্ণমালা – আর –
শব্দ জুড়ে – জুড়ে ।
সেদিনও কি সেই অবোধ বালক
দুধ ভাত মাখা হাতে –
দুধ ভাত মাখা ঠোঁটে –
মিশে যাবে তিমিরে – আঁধারে – ।।
সোনালী – সোনালী আবির মাখা রোদ –
সন্ধ্যা আদর করে নিয়ে গেছে তারে ?
রাত্রির পর্ণ কুটিরে।।
তবু কেন আকাশে বাতাসে –
এত সুর এত মেঘ –
এত বৃষ্টি বুকে –
নীল্ – ভাঙ্গা ভাঙ্গা – কবিতার মত – ।
মেঘ যদি মিশে যায় – শিশিরে শিশির ঝরে
আরবার –
মেঘ পোয়াতি রোদ্দুর সব –
সোনালী – সোনালী আবির মাখা রোদ ?
সন্ধ্যা আদর করে নিয়ে গেছে তারে –
রাত্রির পর্ণ কুটিরে।।
এসো তবে – অতিবৃধ্ধ – বটবৃক্ষখানি –
দৃষ্টি তোমার মেঘ হোক – রোদ হোক –
পৃথিবীর আড়াআড়ি সময়ের রেখা ধরে –
হামাগুড়ি দেওয়া – অলস সকাল।।
হাত ধরে তার – অবোধ বালক –
দুধ ভাত মাখা হাতে –
দুধ ভাত মাখা ঠোঁটে –
ফিরে যাক – ফিরে যাক – নিবিড় হৃদয় ।
আমার ঘরে কোথাও কোনও ঘড়ি নেই
পাশের ঘরে যেটা আছে –
তাও বন্ধ হয়েছে অনেক আগেই –
সময়ের হাত ধরে হাঁটতে ভুলে গেছি তাই।
এই সময়-হীন সময় – অনেকটা
মহাশূন্যের মতো – ।।
কোনও – টান নেই – কোথাও।
কিন্তু তবু তো তার অস্তিত্ব বুঝি সর্বত্র –
সময় নেই – তবু – হিসাব আছে –
দিবা রাত্র –
বসন্ত – চলে যাওয়া – ফিরে যাওয়া আছে –
আছে কিছু স্মৃতি –
গভীর থেকে গভীরতর –
ভেসে ভেসে চলে যাওয়া
অনেক অনেক পেছানো
সময় নেই – তবু স্মৃতি আছে গোছানো।।
সময় নেই – তাই – সময়ে তোমাকে পাই না
সময় নেই – তাই – সময়ে তোমাকে চাই না –
সময় নেই – শুধু পর পর কিছু
ইতিহাস আছে সাজানো।
ফিরে যাও – ফিরে যাও –
হে আলোকবর্ষব্যপী – জ্যোতিষ্কমণ্ডল –
হে সপ্তর্ষিমণ্ডল –
হে বশিষ্ঠ – হে অরুন্ধতী – হে কালকূট
ফিরে যাও হে ঊর্ষা।
ক্লান্ত নদীতে অনেক জল বয়ে গেছে –
প্লাবন এসেছে – উজানে –
ইতিহাস খুঁড়ে খুঁড়ে –
অনেক কঙ্কাল সব ভাসিয়ে দিয়েছি –
দীর্ঘ পথ ঘুরে
চলে গেছে – চোখের আড়ালে –
সময় নেই – তাই হিসেব নেই –
কত গেল – আরও কত আছে
তাড়া নেই – গোনবার –
সময় নেই – ।।
এখন অনেক একলা হাঁটা –
ইচ্ছে করে
রোদ বৃষ্টির হাত ধরে –
মেঘ যখন বৃষ্টি অনেক –
টাপুর টুপুর – একলা মনে
হাত ধরে তার – যাই হেঁটে যাই
মেঘের 'পরে দিনে দিনে।
এখন অনেক – একলা হাঁটা
ক্ষণে ক্ষণে –
আপন মনে।
বিকেল তখন – আকাশ জুড়ে –
একলা তারা অনেক দুরে –
আপন মনে – একতারা তার
মনখারাপি বাউল সুরে
তুলোর মত – পেঁজা পেঁজা –
পেলব ঘাসে হিমেল পায়ে –
দূর পেরিয়ে – অনেক দুরে –
একলা হাঁটা – একলা হাঁটা –
আকাশ জুড়ে –
এখন অনেক – একলা হাঁটা – ইচ্ছে করে।
Recent Comments