এই নাও টুকরো টুকরো হৃদয় আমার,
আর আমায় দিয়ে যাও – তোমার স্তব্ধতা।
এই-সব তুমি পাখি করে দিও –
কান্নাগুলো ফুল।
নিয়ে নাও যত বন্ধন – যত নিয়ম – যত শৃঙ্খল,
বে-নিয়মে – আমাকে দাও তোমার মুগ্ধতা।
এক টুকরো কাঞ্চনজঙ্ঘা।
নিঃশ্বাসে তোমার বৃষ্টি নামে,
এক নীল, – রাঙিয়ে দেওয়া বৃষ্টি।
মনে হয় – মেঘে মেঘে ঝর্ণার রং –
ঘ্রান নেমে আসে – আজন্মের সুখ।
পিঠে – বুকে এলোমেলো শীতল হাওয়া,
ভেঙে পড়ে রোদ্দুর।
আমি মেঘলা হবো – তুমি আকাশ পারে কবি।
ট্রেনটা কখন যেন শ্বাপদের মতো চুপিসাড়ে এসে দাঁড়িয়েছে।
সারা রাস্তা বয়ে আনা বোঝাটা পাশে সরিয়ে মন চায় –
আরও একটু স্পর্শ।
সেই আমি – আর – তুমি;
ঠিক হারিয়ে যাওয়ার আগে –
নতুন দিনের মতো।
তোলপাড় করে ওঠে আমার নিটোল বুনোট।
ফিস ফিস করে জানান দেয় – শ্বাপদটা –
সময় শেষ হওয়ার যন্ত্রনা।
ঠিক সেই সময় দেখি –
তুমি তখনও দরকষাকষিতে ব্যস্ত –
আরও দু চার পয়সার সস্তা সাশ্রয়।
এইভাবেই –
ধীরে ধীরে কুয়াশায় মধ্যবিত্ত প্রেম –
মধ্যবর্তী – হয়ে যায়।
শুধু ঝাপসা আলোয় হয়তোবা দু ফোঁটা জলের রেখা –
দু হাত শূন্যে তুলে গর্জে ওঠে –
অপূর্ণতা যদি কিছু থেকেও যায় –
তা কিছু বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো নয় -।
বাঁচবি জলে মরবি ধরে মাটি ।
মরবি জলে বাঁচবি ধরে মাটি ।
এই জলের ক্রমে এই ধরার ক্রমে ।
তাই বলে থাকবি জলে আসবি না স্থলে
থাকবি স্থলে নামবি না জলে ।
ওরে পোড়ামুখো ! যাবি কোন মুখো !
একদিন না একদিন ভয় উতরে নামতে হবে জলে
কখন কে জানে কোন যে ঋতুর খুঁটির অবতলে
এক নিমেষে অন্ধ বধির নগ্নশরীর শুতে যায় বলে ।
মাটির টুকরো নিয়ে আজ দলাদলি মারামারি ।
জলের দাগ নিয়ে কাল ভাগাভাগি কাড়াকাড়ি ।
অযথা দু প্রান্তের রক্ত মাংস মানুষধারী
যদিও কাল জল মাটির জীবন হাজারদুয়ারি।
ওরে পোড়ামুখো ! যাবি কোন মুখো !
একদিন তো যেতে হবে এই মাটিতে এই জলে
সব জমা খরচ ফেলে শব শরীর মাটির ঢেলায় দলে
শেষ যাত্রা চিতায় জ্বলে অজর জলের স্রোতের কবলে ।
বিকেল টা অনেক্ষন একলা বসেছিল ছাদের কিনারে।
তারপর রং চটা ম্যাড়ম্যাড়ে একটা হলুদ দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললো –
আসি রে।
বললো কিন্তু ঠোঁট নড়লো না – একটুও।
তারে তারে – জট পড়ে যাওয়া একটুরো আকাশ –
আর সেই নিঃসঙ্গ বিকেল।
ঘাড় কাত করে ইতি উতি দেখলাম।
নাঃ, একটা পানসে লোনা হাওয়া ছাড়া –
আর তো কিছুই চোখে পড়ে না।
– তবে, বললো তো! কিন্তু কাকে বললো?
বিকেল কি কাউকে সারাদিনের বারোমাস্যা শোনাতে বসেছিল?
এ সব তো কখনো ইতিহাস হয় না ;
এ সব কি কখনো ফ্রেম বন্দি হয় ?
জানি না। হয়তো হয় -।
তবে এটুকু জানি –
এখান থেকে গড়াতে গড়াতে সান্তাক্রূজ হয়ে –
তারপর ছুটি।
আরো জানি – কতটা পথ তাকে যেতে হবে ।
আরো কত বার এই মন খারাপের বার্তা দিতে হবে তাকে –
‘আসি রে’।
একটা লোনা পানসে হাওয়ায় – হলুদ স্বপ্নের মতো মুছে নিতে নিতে
ফিরে যাবে – আমার সাধের বিকেল।
কখনো আমার হাতের চুম্বন মিশে যাবে আরবের জলে –
কখনো আফ্রিকার জঙ্গল ফেলে চলে যাবে সে।
তবে –
সেই অতৃপ্ত – ক্ষয়ে যাওয়া ঝাপসা আলোয়,
এই বার্তা, প্রেমিকের মতো –
চোখ ছুঁয়ে বলে যাক – শেষ বার –
‘আসি রে’, – আমার বিকেল।
(অমিতাভ বাগ)

পান্তুদা – টা
লড়তে জানে – চরতে জানে –
রাগ হলে তার –
কাউকে ধরে মারতে জানে –
কানটি টেনে মুলতে জানে।
.
.
.
.
.
.
.
.
হায় রে –
.
.
.
এভাবেও সে ভাবতে জানে।
(অমিতাভ বাগ)
(এই নামটি নিছক কৌতুকরস সৃষ্টির জন্য ব্যবহার করা হয়েছে। কাউকে আঘাত করা আমার উদ্দেশ্য নয়। তথাপি কেউ আঘাত প্রাপ্ত হলে আমি ক্ষমাপ্রার্থী। চরিত্রটিও নিছক কাল্পনিক। দয়া করে, এর সাথে বাস্তবে কাউকে মেলাতে যাবেন না। )
বিশেষ দ্রষ্টব্য :
এই বিষয়ে উল্লেখ্য, এই কবিতাটির প্রথম পর্ব টি অবশ্যই পড়বেন নিচের লিংক টি থেকে।
পান্তুদা
Recent Comments