অঝোর ধারা বৃষ্টি গোনা
সন্ধ্যা আর আমি
মাঝখানেতে তিতির সোনা
প্রাণ গিয়েছে থামি ৷৷
ওপারেতে মুক্ত আকাশ
মেঘের আনাগোনা
এ-পারেতে মিটিমিটি
উষ্ণ আদর ছোঁয়া,
ওপারেতে কান্না ভেজা
বৃষ্টি মাদল গাওয়া ৷৷
এ-পারেতে মন খারাপি
সিক্ত আগল খোলা
ওপারেতে বৃষ্টি ফোঁটায়
বকুল গাঁথা মালা ৷৷
এ-পারেতে রাজপ্রাসাদী
চুমকি জরি শাড়ী
রাত পোহালেই উড়ে যেও
দূর সুদূরের পাড়ি ৷৷
শুধু আজ সারারাত তুমি আমি
ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি
শ্রাবন শেষে তিতির সোনা
কবিতায় অনাসৃষ্টি ৷৷
Or
কথা ছিল কাল সারারাত
এক মাতাল করা ঝোড়ো জ্যোৎস্না
আমার কড়িকাঠ বেয়ে নেমে আসা
ঈষৎ পান্ডুর মেঘ ঝরা সন্ধ্যা
…….আর সেই কোন ছেলেবেলার ভেসে আসা
কত শত মুখ দেউড়ির খিড়কি দিয়ে
অনেক মুখের থেকে মুখ ধার করে –
ভোরের আলোয় লাল হয়ে যাবে ৷
অনেক মুখের থেকে মুখ
ঠিক মানুষের মুখের মত মুখ –
রাত্রির শরীরে মুখ লুকিয়ে অনেক কেঁদেছি আমি ৷৷
অনেক রাত অবধি শুধু শীতল হাওয়া
শিরশিরে ঠান্ডা হাওয়া….
অনেক কেঁদেছি আমি
তারপর….
ঘুমিয়ে গেছি কখন ৷৷
অদ্ভুত সুন্দর এক ভোর, রমণীর মুখের মত
কখন সে ঠান্ডা বাতাস হয়ে গেছে বসন্ত….. ৷৷
তোমার লাল ফোঁটার মত ভোরে –
আমি আজও খুঁজে ফিরি ……
অনেক মুখের থেকে মুখ
ঠিক মানুষের মুখের মত মুখ ৷৷
In PDF View
Or
Katha Chhilo Kal Sararat
এক উষ্ণতা আমি চুরি করে এনেছি
রাত্রির ওপার থেকে –
সেই কোন ভুলে যাওয়া মেঠো পথ ধরে
তিতিরের ডানার রঙে –
অনেক তারার মতো মুখ, কখনও ভীড় করে আসা
মিঠেপানি নদীটির কূল
উজানে – আমার হারিয়ে যাওয়া
অনেক বাঁধনের থেকে….
কতশত ভালোবাসা আজ ভিখিরি জঠরের মত ৷
কেউ বা মোড় ঘুরেই হঠাৎ অদৃশ্য
কেউ বা মাটির রঙে মিশেগিয়ে ধুসর
কেউ বা ক্ষমাহীন ক্লান্তিহীন সমুদ্রের মতো
শুধুই ছলনায় বিবর্ণ –
কেবল ঢেউ, যাওয়া – আসা
অথবা ……
আকাশের টানে – কখনও জোয়ার অথবা ভাঁটা ৷৷
সেই উষ্ণতা আমি চুরি করে এনেছি –
এই বেলা তুমিও সে উত্তাপ দুহাতে মেখে ৷৷
সময় হয়েছে আর এক রাত্রি আসার ৷৷
আজ বড় মেঘ জমেছে
আমার গ্লাসের গলা বেয়ে
লাল ওয়াইনের স্তর –
লাল ওয়াইনের মেঘ – ঢলে আসে ৷
….. আজ বড় মেঘ জমেছে ৷৷
আজ সারাটা দিন শুধু তুষারের মতো সাদা –
নরম ঘাসের মতো পেলব –
ওয়াইনের ঢল নেমেছে ৷৷
আজ বড় ভোর জমেছে
ভিজে শিশিরের চিক্কন জালি
পাতায় পাতায় সবুজের গন্ধ
আড় ভাঙা সূর্যের হাই
আর পদ্মের লাজুক চাহনি ৷
আজ বড় ভোর জমেছ ৷৷
In PDF View
Or
Baro Megh Jamechhe
ককটেল – আরো এক ঢোক ৷৷
কাল থেমেছিল চৌষট্টিতে
আজ কত হয় কে জানে ৷
ককটেল – আরো এক ঢোক ৷৷
ধ্যানের প্রাসাদ ঠেলে দেখি
তোমার নিস্পলক দুটি চোখ,
অবোধ বালকের কোনো
লেথ্থি ছাড়া লাট্টুর মতো
বনবন ঘোরে……..
তবু যেন স্থির,
যেন – কতো কথা বলে
নিদারুন গম্ভীর ৷৷
ককটেল আরো এক ঢোক ৷৷
তবু তো মাতাল করে না,
তোমার হাসির মতো !
চোরা পথে, আধখানা ঢাকা –
জ্যোৎস্নার মতো ৷৷
মানসী তুমি হাসো না …….
আর একটু মাতাল হই ৷৷
ককটেল – আরো এক ঢোক ৷৷
মৃদুস্বরে আধো আধো ডাক
প্রেম … ধরা ধরা ডাক
গুমে গুমে কাঠ……
কালো ছায়ে ঢাকা
লাল নয়, তবু –
গনগনে তাতা ৷
আমাকে কেন
ততটা মাতাল করে না ?!
দু-আঁচল সময় আরো
ভিক্ষে চাই,
যদি পাই –
আরো দুটি মূহূর্ত্ত ঘিরে
ততটা মাতাল করে –
আমায় আবার ৷৷
ককটেল আরো এক ঢোক
দুরে …… আরো দুরে ….
তার নুপুর শুনি,
তুমি কি আসছ’ মনি..
এই বারে বসে – আরো কত বার
ঘুমিয়ে গেছি – অনেক আগেই
তোমার আসার ৷৷
ঝমঝমে থমথমে আরো কত দুর
এখুনি বিকেল এলো এড়িয়ে দুপুর ৷
ককটেল আরো এক ঢোক
তুমি আসছো মনি,
তুমি আসবে জানি
আজ জাগি –
ককটেল – আরও এক ঢোক …
ককটেল – আরও এক ঢোক ৷
In PDF View
or
Kaktel Aro Ak Dhok
Recent Comments