এই নাও টুকরো টুকরো হৃদয় আমার,
আর আমায় দিয়ে যাও – তোমার স্তব্ধতা।
এই-সব তুমি পাখি করে দিও –
কান্নাগুলো ফুল।
নিয়ে নাও যত বন্ধন – যত নিয়ম – যত শৃঙ্খল,
বে-নিয়মে – আমাকে দাও তোমার মুগ্ধতা।
এক টুকরো কাঞ্চনজঙ্ঘা।
নিঃশ্বাসে তোমার বৃষ্টি নামে,
এক নীল, – রাঙিয়ে দেওয়া বৃষ্টি।
মনে হয় – মেঘে মেঘে ঝর্ণার রং –
ঘ্রান নেমে আসে – আজন্মের সুখ।
পিঠে – বুকে এলোমেলো শীতল হাওয়া,
ভেঙে পড়ে রোদ্দুর।
আমি মেঘলা হবো – তুমি আকাশ পারে কবি।
বাঁচবি জলে মরবি ধরে মাটি ।
মরবি জলে বাঁচবি ধরে মাটি ।
এই জলের ক্রমে এই ধরার ক্রমে ।
তাই বলে থাকবি জলে আসবি না স্থলে
থাকবি স্থলে নামবি না জলে ।
ওরে পোড়ামুখো ! যাবি কোন মুখো !
একদিন না একদিন ভয় উতরে নামতে হবে জলে
কখন কে জানে কোন যে ঋতুর খুঁটির অবতলে
এক নিমেষে অন্ধ বধির নগ্নশরীর শুতে যায় বলে ।
মাটির টুকরো নিয়ে আজ দলাদলি মারামারি ।
জলের দাগ নিয়ে কাল ভাগাভাগি কাড়াকাড়ি ।
অযথা দু প্রান্তের রক্ত মাংস মানুষধারী
যদিও কাল জল মাটির জীবন হাজারদুয়ারি।
ওরে পোড়ামুখো ! যাবি কোন মুখো !
একদিন তো যেতে হবে এই মাটিতে এই জলে
সব জমা খরচ ফেলে শব শরীর মাটির ঢেলায় দলে
শেষ যাত্রা চিতায় জ্বলে অজর জলের স্রোতের কবলে ।
শব্দের পরে শব্দরা সব –
শব্দ করে মরে,
বাকি আরও শব্দ শুধু
বেকার গোল করে।
বীরপুরুষের শব্দ যত
কোমর বেঁধে আসে,
আমার তোমার শব্দ শুধু
আলো ছায়ায় ভাসে?
আমার সকল শব্দ ওগো,
এবার তবে জাগো।
জাগার সময় শব্দ-গ্রহণ ?!
‘ভয়’ – ক’রো নাগো।।
ভূষণ্ডির মাঠেই যদি
যুদ্ধ শুরু হয় –
একলা কেন ভেবে মরি –
শব্দ যেন হয়?
শব্দ হেথা – শব্দ ‘হোতা’ –
শব্দ যেন হয় –
শব্দ আগে – শব্দ পিছে
শব্দ-গ্রহণ নয়।।
সস্তায় পাওয়া একটা বিকেল, শুধু নিঃসঙ্গতার অনুরণন।
তবু নোনা জলে চোখ ধুয়ে অপেক্ষায় থাকে চাঁদ।
শীতঘুমে ছিলে বুঝি!
পড়ন্ত আলোয় ভেসে থাকে তোমার স্তব্ধতা…
জানি তুমি হারিয়ে যাবে সভ্যতার অলীক স্বপ্নে-
হয়তবা নিরুত্তাপে, এক হাজার অমাবশ্যা পেরিয়ে।
গৌরচন্দ্রিকায় বড় কাল ব্যয় হয় ।
রাত একটু নিশুতি হলে
কত অনিয়ন্ত্রিত শব্দ আসে – স্বপ্নের মতো
ধাতব যান্ত্রিক – গলিত সুখ বোধ অথবা অস্ফুট গোঙানি –
অভুক্ত শ্বাপদের ম্রিয়মান শীৎকার –
নিস্তব্ধ অন্ধকার – দীর্ঘ নিঃশ্বাসে – বুক ভারী হয়ে আসে।
কালপেঁচা উড়ে যাওয়া – এই সব রাতে – দ্রবীভূত কিছু
মাতালের মতো ঘুম ঘুম স্বপ্নের জট।
পাতায় পাতায় লেখনীর প্রস্তুতি – কাল ভোর হওয়ার আগে
নিয়তির চাপা আক্রোশের মতো – লালায়িত জিহ্বার
নিদারুন উচ্ছাস।
অনেকটা কাছে গেলে – সেই ধ্রুবতারা – কালপুরুষ ছেড়ে
অনেকটা কাছে গেলে –
এরকমই অনেকটা – ফেনিল রক্তিম কিছু আঁচড়ের শব্দ
ভিড় করে – অনন্ত আকাশ জুড়ে।
সেই নিষিদ্ধ শব্দের রঙে – কিছু পুবের হাওয়া –
দুহাতে – আঁচলে – শরীর ঢাকে ব্যস্ত শব্দেরা সব।
রাত ভোর হলে- কুয়াশায় – হাওয়ায় হাওয়ায় –
কাঁচা মাটির ভিজে যাওয়া নরম মনের মতো –
অথবা – এলো চুলে আগাছার অতৃপ্ত জঙ্গল –
মোমের মতো খুঁটে খাওয়া জমাট জোৎস্না।
এসব ফেলে আর ঘুম আসে না –
ঘুম আসে না বড়।
Recent Comments