হায় রে শিশু – হায় রে কিশোর
কোথায় জ্বলে – তোর ঘরদোর ।
কোথায় পড়ে আম্মি তোদের
কোন নদীতে হয় গো কবর
কোন বেয়নেট – ছিন্ন করি
আব্বু তোদের – বেহেস্ত পাড়ি ।
কণ্ঠ তোদের – রুদ্ধ করি
পালিয়ে যা তুই সে দেশ ছাড়ি।
তবুও যদি তর্ক করিস
আগুন তবে – পুড়িয়ে মারিস –
যুগ যুগান্তে – একটাই দল
যেভাবেই হোক – ক্ষমতা দখল –
এই ধর্ম – এ দেশ আমার
এই পৃথিবী আবার আমার -।
এই ধর্ম – এ দেশ আমার
এই পৃথিবী আবার আমার –
এতটা আকাশ – এতটা বাতাস –
এই জমিটা – ঐটুকু শ্বাস –
সব টুকু চাই – সব টুকু চাই –
নইলে এবার – শব টুকু চাই –
আমার কালি – নিয়ম আমার
আমার চাবুক – বলবে এবার –
তোর দুনিয়া? – ছিলই কবে !
টুকরো রুটি – এতেই হবে –
(তোদের) অতীত যতই – হোক পুরানো
নয় আমাদের – নয় ওদেরও –
গুনতিতে যে – অনেক বড় –
এই নিয়মেই – আমরা দড় – ।
এই নিয়মেই – চলতে হবে
এই নিয়মেই – মরতে হবে।
(এই) নিয়ম মেনেই – মৃত্যু মিছিল
যুগ যুগান্তে – হয় না শিথিল -।
(Please Note: We are not intended to heart any religious or any community. They might come significantly into purview. If so, we are extremely sorry for that.)
মেয়েটা যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল-
বাবার দিকে একটু লক্ষ্য রেখো মা
ভাই যেন ঠিকঠাক পড়াশুনা করে;
আরও বলেছিল- তোমাদের ছাড়া থাকতে পারবো না আমি…
ওর বিদায় লগ্নে –
শঙ্খ আর উলুধ্বনির তরঙ্গের সাথে
ভেসে গিয়েছিল আমাদের অব্যক্ত ব্যাথা দুর-দুরান্তে!
ভাবতে অবাক লাগে-
একটা মেয়ে রাতারাতি কেমন করে
এক নারীতে পরিনত হয়।
মেয়েটার কথামত লক্ষ্য করতে গিয়ে দেখেছি
লোকটা ক্রমশ পাথরের মতো নির্বাক – নিরুৎসাহ,
জীবনের সব সুখ আনন্দ …
গ্রীষ্মের ডোবা পুকুরের জলের মতো
হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।
ছেলেটা – ছেলেটা দিদির সংসারে সুখের জন্য
পড়াশুনা ছেড়ে দিয়ে
একটা মুদীর দোকানে কাজ করে।
মনে পড়ে-
ওরা যখন অষ্টমঙ্গলায় এসেছিল-
দারুন উৎফুল্ল ছিল মেয়েটা,
খুশীতে মুখখানি যেন পুর্নিমা চাঁদের মতো উজ্জ্বল
পাহাড়ী ঝর্নার মতো কল্লোলিনী সে।
যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল-
আমি খুব ভাল আছি মা।
তারপর ছ’মাসের মাথায় যখন এলো-
যেন চাঁদের গায়ে ছাপ ছাপ অন্ধকার
অনেকটা মলিন – ম্রিয়মান সে।
আমার কানপাশা জোড়া দেখতে না পেয়ে বলেছিল-
ওদের জন্য আর কত করবে মা?
যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল-
ওখানে আর ভাল লাগে না…
এক বছরের মাথায় মেয়েটা একাই এসেছিল;
তখন একেবারে বিধ্বস্ত-হতাশ,
লাল নীল হলুদ পছন্দের কয়েকটা শাড়ী
কিছু গয়না রেখে দিয়ে বলেছিল-
ও গুলো আর ভাল লাগে না মা ।
যাওয়ার সময় বলে গিয়েছিল-
আর কবে আসবো জানি না…
মেয়েটা আর কোনদিন ফিরে আসেনি-
শুধু একটা ফোন এসেছিল…
মাঝরাতে কিংবা ভোরের আগে।
সেদিন হয়তো আর ভোর হয়নি-
ভোরের পাখীগুলি আর কলোরব করেনি।
শুধু একটা কাক ডাকছিল ছাদের কার্নিশে
বুকটা আমার ব্যাথায় ভেঙে যাচ্ছিল!
মেয়েটার জীবনে আর কোনদিন ভোর আসেনি-
ভোরের আলো ফোটেনি।
মেয়েটা কোনদিন আর ফিরে আসেনি-
কোনদিন আর কিছু বলেনি…
ক্লান্ত কারা যেন বলে গেলো
দেখা হবে আজ|
সকাল থেকে তৈরি হয়েছি|
স্মৃতি থেকে তুলি করে তুলে
এনেছি তোমার সাথে কাটানো
মন কেমন করা বিকেলের রঙ|
যত্নে লাগিয়েছি গালে|
কথা ছিলও দেখা হলে
ধরা দিতে হবে|
এখন শুধু তারই অপেক্ষা|
মেঘ রঙা কাজল চোখে দেওয়ার
বড়ো সাধ| তবু মনে ভয়|
মেঘেই তো লুকিয়ে বৃষ্টি|
রক্তাক্ত ঠোঁটে অভিসারে যাই|
চাঁদের আলোর রিফ্লেকশন|
জাকুজির আলপনা আঁকে|
মুখাবয়বে কারুকাজ|
দিনের পর দিন| বছর বছর|
হৃদপিণ্ডের লাব-ডাব|
ভাইব্রেশনে টিউনড মেসেজ|
সঠিক পাঠোদ্ধার হলও না আজও|
নিষ্ফল ডিপ্রেশনের চাপ
ক্রমশ- ক্রমাগত|
ব্রেন থেকে ব্রেনে|
গ্রে-মেটেরিয়াল বাড়ছে বা কমছে|
আনরিড থেকেই যাচ্ছে
ভাইব্রশনে টিউনড মেসেজ|
এক পরিচয় যত্নে আমি আগলে রাখি –
এক পরিচয় – সময়ে – গোচরে বিলিয়ে থাকি |
পরিচয় তবু নানা রঙে ঝিলিক দিয়ে
রাত বিরেতে অন্য রঙে যায় হারিয়ে ।।
চিনলে বলে দিলাম তোমায় – আমার পরিচয়
মিষ্টি করে দুষ্টু কথা – বলিবার নয় ।।
তবু যখন একলা থাকি
নিশীথ পানে তাকিয়ে থাকি
বুক ভরা এক হুতাশ ফেলে
তাকিয়ে দেখি দুচোখ মেলে
– যতদূরেই ঠাই
একলা আমি একলা আমি –
কেউ কোথা বা নাই ।।
তারস্বরে জিগাই তারে –
আকাশ আমার – আকাশ আমার –
পার করে দাও ভাই –
দেবার মতো হয়ত আমার আর কিছু বা নাই –
দিলাম তোমায় আমার যত জমানো পরিচয়
পারাপারের পারানি বাবদ হয়ত বা কিছু হয় ।।
অনেক বাদে মৃদু হাসি কহিলেন তিনি
সত্য তবে কোনটা তুমি
কেমনে তোমায় চিনি ??
দাও তবে নিজ কাছে সত্য পরিচয় –
যা দিয়ে সত্য করে পারানিটুকু হয় ।।
মিথ্যা যদি সত্য কর –
এই বেলাটুক সবুর কর –
গড়িয়ে বিকেল সন্ধ্যা হলে
সূর্য্যি মামা অস্ত গেলে
হাঁক দিয়া কয় মাঝি আমায় –
এবার তবে যাই –
ভুল করে ভাই মিথ্যা দিলে
….. আর পারানি নাই ।
Recent Comments