শোনো, সেই হাতটার
গল্পটা আজও বলা হয়নি ।
হ্যাঁ, সেই হাত, যার পেশিতে
আনকোরা শিল্পী রচেছে কেবল শিকড়,পাঁচ আঙ্গুলে
বিদ্রোহী বিক্ষুব্ধ আবেগ । আগ্রাসী লতা গুল্ফ
নির্ভুল লক্ষ্যে জড়িয়ে ধরেছে তার চৌহদ্দি ।
আমি যে তোমায় প্রতিবেশী মনে করি
আমি কি তোমায় বাড়তে দিতে পারি?
বল’ তুমি-ই বল’ ।
জানি আমি জানি,
এভাবেই কেটে গেল কত সূর্য কত বৈশাখ
বিশ থেকে চব্বিশ, চব্বিশ ফেলে আটাশ ।
তবুও নাছোড়বান্দা সে হাত
আলোছায়ার ক্যানভাসে টিক টিক শব্দের ভরসায়
আবার মুষ্টিবদ্ধ হচ্ছে তার নীলাভ উড়ানে।
Discussion open [See More]
আমাকে প্রেমিক নাও ভাবতে পারো।
হিমাঙ্ক তাপ জড়তা ছড়িয়ে দিলে
দ্বিধা বিভক্ত হাত গোলাপ অঞ্জলির স্পর্ধায়
নির্লজ্জ হতে পারেনি ।
অথচ কলেজ ফেরা পথ চুপিসারে রেখেছিল অপেক্ষায়
আমার চৈত্রমাস ।
আর ফাগুনের আগুন রেখে তোমার উচ্ছল ঢেউ
বাঁধ ভেঙ্গে দৈবাৎ দাবানল হয়ে গেলে
অজস্র কিট-পতঙ্গ ছুঁতে চায় জৈবিক সার্থকতা,
তখন নিতান্তই কাব্যিক বেদনায় মুখ ঢেকে
সমস্ত ইচ্ছে-ডানা আমার চিলেকোঠায় নির্বাসিত ।
অতঃপর রাত ঘুম জমে নির্দ্বিধায় দেওয়ালে দেওয়ালে
কোনারকীয় ভাস্কর্য হয়ে ওঠে ।
এই সব পাতা যা একটু গোচর পেলে
মুহূর্তকালে ফুল হয়ে যেত ,
তুমি পড়েও দেখনি ।
যেমন দেখনি একবারও বেবাক জলতরঙ্গে অদ্ভুত
আজ কেমন করে দিঘী নাস্তানাবুদ
চাঁদের ছায়াটুকুতেই !!
তারপর ?
তারপর…
লাল নীল আলোয় কেমন হাসতে হাসতেই
রেণু মিশে গেল অন্য পরাগে ।
আমি আমাকে খুঁজে পেলাম হিরোশিমা’র ধ্বংস স্তূপে ।
এখনও তার আরোপিত প্রভাব
মুছা গেল না !
সুখের মতো এক বোধ কাজ করে
তাই ভুলে যাই –
আমি নই আমি নই
আমার আমিত্ব কাজ করে
সুখের মতো এক ঘুম ঘোরে |
এই পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন বটবৃক্ষ –
অজস্র মায়ার মতো – আমিত্ব-হীন |
যদি – ব্রহ্মাণ্ডে কোথাও – কখনো –
এক অভিকর্ষ-হীন –
বলহীন – আকৃতিহীন – আমিত্বহীন
শুধু এক অস্তিত্ব – শুধু শক্তি –
আমি জানি – আমিই সেই ||
তবু সুখের মতো এক আমিত্ব গড়ে তোলে |
আমিই সেই বৃদ্ধ –
জরা -মৃত্যু – ভয় – অতি দীন বিদীর্ণ চিত্ত –
আমিই সেই নারী –
জন্ম – মৃত্যু – সৃষ্টি – ধ্বংস
সেই ঈশ্বরী |
আমিই সেই হ্যামিল্টনের মায়া
আমিই সেই আদুরে সোহাগী হাওয়া |
আমিই সেই ভক্তি –
আমি জানি – আমিই সেই
আমিত্বহীন শক্তি ||
তবু কেন – কেন এক
সুখের মতো বোধ কাজ করে ??
আমাদের চোখ যদি নীবিড় হয়
আমাদের মুখ যদি ঘন হয়
আমাদের ঠোঁট যদি সিক্ত হয় –
অন্য প্রেম যদি গুঁড়ো গুঁড়ো হাওয়ায় ভেসে……
ধুলার মতো অথবা
রেণূর মতো উড়ে যায় –
উড়ে যায় –
আমাকে সিক্ত করে – আমাকে নিষিক্ত করে ॥
আমাদের মন যদি পোয়াতি হয় ॥
সাঁঝ বেলা – ধুপ – প্রদীপ –
ভিড়ে ঠাসা – গাদাগাদি – রক্তাক্ত যৌবন
সূর্যাস্তের মলীন ছোঁয়া
রমণীর খোঁপার মতো
পরিপাটি চাঁদ –
আমাদের দু পা যদি আড়ষ্ট হয় –
আমাদের বার্ধক্য যদি লগ্নভ্রষ্টা হয় –
আমাদের শুষ্ক হৃদয়
অচল মন – আর – নীরেট প্রেম –
বার্ধক্য যদি……………
আমাকে ছড়ায়ে দিও হেমন্তের মতো ॥
If Bengali Not Came
Recent Comments